বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়। তবে নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ১২টি নিশ্চিত আসন হাতছাড়া হয়েছে বিএনপির। অন্যদিকে এর সুবিধা পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে প্রাপ্ত মোট আসনের মধ্যে অতিরিক্ত ২২টি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। অবশ্য বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলেও এর মধ্যে ১০টি আসনে নিশ্চিত বিজয়ী হতেন তারা। জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে। ধানের শীষ না পেয়ে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ৭৮টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ হয়নি। আর চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে ফলের গেজেট প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) তিনজন প্রার্থী নির্বাচিত হন। অন্যদিকে জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়লাভ করে।
ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা আসনগুলোর মধ্যে ৪৯টিতে দলীয় প্রার্থীরা জিতেছেন। আর বিদ্রোহীরা বিজয়ী হন মাত্র সাতটি আসনে। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, চাঁদপুর-৪ আসনের আব্দুল হান্নান, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল এবং দিনাজপুর-৫ আসনের রেজওয়ানুল হক।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে জামায়াত জোটের বিজয়ী হওয়া আসনগুলো হলো—ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২ ও ৫; নড়াইল-২; বাগেরহাট-১, ২ ও ৪; সাতক্ষীরা-৩; শেরপুর-১; ঢাকা-১২ ও ১৪; মাদারীপুর-১; চট্টগ্রাম-১৬; নোয়াখালী-৬; সিলেট-৫; ময়মনসিংহ-২ ও ৬; নীলফামারী-৪; রংপুর-৩; গাইবান্ধা-৫; পাবনা-৩ ও ৪।
দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে এগুলোর মধ্যে ১২টি আসনে নিশ্চিতভাবে জয়লাভ করার সম্ভাবনা ছিল বিএনপি ও জোটের। আসনগুলো হলো—যশোর-৫; নড়াইল-২; বাগেরহাট-১; শেরপুর-১; ঢাকা-১২; মাদারীপুর-১; চট্টগ্রাম-১৬; সিলেট-৫; ময়মনসিংহ-২; গাইবান্ধা-৫ এবং পাবনা-৩ ও ৪। এই আসনগুলোতে বিএনপি ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট একত্র করলে জামায়াত জোটের প্রার্থীর চেয়ে বেশি হয়।
তবে নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বিজয়ী ২২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১০টিতে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা শেষ হাসি হাসতেন। আসনগুলো হলো—ঝিনাইদহ-৪; যশোর-২; বাগেরহাট-২ ও ৪; সাতক্ষীরা-৩; ঢাকা-১৪; নোয়াখালী-৬; ময়মনসিংহ-৬; নীলফামারী-৪; রংপুর-৩। কারণ, এসব আসনে জামায়াত ও দলটির নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোটের প্রার্থীরা বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর একত্রে প্রাপ্ত ভোটের চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতের মো. আবু তালিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট পান। গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট।
যশোর-২ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা ধানের শীষ প্রতীকে পান ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে ১৮৮ ভোট পান। যদিও তিনি গত ২০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
যশোর-৫ আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির ‘বহিষ্কৃত’ সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন পান ৬৯ হাজার ১৮২ ভোট এবং বিএনপির সমর্থনে ‘অনিবন্ধিত’ জমিয়তের রশিদ বিন ওয়াক্কাস পান ৪৪ হাজার ৭১৪ ভোট। বিএনপির দুজনের ভোট একত্র করলে হয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৯৬, যা জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে বেশি।
নড়াইল-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আতাউর রহমান ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম পান ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট। এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ধানের শীষ প্রতীকে পান ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। মনিরুল ও ফরহাদের প্রাপ্ত ভোট একত্র করলে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯২০ ভোট হয়, যা আতাউরের চেয়ে বেশি।
বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী করা হয় মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলকে। আসনটিতে প্রায় সোয়া এক লাখ হিন্দু ভোটার। তবে জিততে পারেনি কপিল। এ আসনে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জামায়াতের মশিউর রহমান খান। আর বিএনপির কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৩২৩ ভোট। মাত্র ৩ হাজার ২০৪ ভোট ব্যবধানে পরাজিত হয় বিএনপি। যেখানে দুই বিদ্রোহী এমএএইচ সেলিম ও মাসুদ রানা ভোট পান যথাক্রমে ৫ হাজার ২৮৩ এবং ৬ হাজার ৪৬৭টি। মাসুদ রানা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ‘বহিষ্কৃত’ সদস্য এবং সেলিম সাবেক সভাপতি ছিলেন। বিএনপির তিনজনের ভোট একত্র করলে হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩টি, যা জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে বেশি।
বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ৬৬ হাজার ৪০৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন। আর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এমএএইচ সেলিম পান ৪৮ হাজার ৯৬৫ ভোট।
বাগেরহাট-৪ আসনটি থেকে বিএনপি মনোনয়ন দেয় মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে-কে। জাতীয় পার্টির এই সাবেক নেতা আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন। অবশ্য নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। আসনটিতে ১৭ হাজার ৭৪১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন জামায়াতের আবদুল আলীম। তিনি পান ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট। বিএনপির সোমনাথ দে পান ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট। বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ‘বহিষ্কৃত’ সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন; তিনি পান ২২৯ ভোট।
সাতক্ষীরা-৩ আসনে জয় পান জামায়াতের মুহা. রবিউল বাসার। তিনি পান ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত ডা. শহিদুল আলম পান ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ ভোট। রবিউল বাসার ৭৮ হাজার ৮৪৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন পান ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট।
শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. সানসিলা জেবরিন পান ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী হন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বহিষ্কৃত এই নেতা ভোট পান ৬২ হাজার ৪১৫টি। বিএনপির দুজনের ভোট একত্র করলে হয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৫৭টি, যা জামায়াত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি।
ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান বিজয়ী হন। তিনি পান ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ‘কোদাল’ প্রতীকে পান ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। অর্থাৎ জামায়াতের প্রার্থী ২২ হাজার ১৮০ ভোট বেশি পান। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ফুটবল প্রতীকে পান ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট। বিদ্রোহী ও বিএনপি সমর্থিত জোট প্রার্থীর ভোট একত্র করলে হয় ৬০ হাজার ৮৩২টি, যা জামায়াতের চেয়ে বেশি।
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলি পান ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এসএ সিদ্দিক সাজু ফুটবল প্রতীকে পান ১৬ হাজার ৩২৮ ভোট।
মাদারীপুর-১ আসনে জামায়াত সমর্থিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাদিরা আক্তার পান ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামাল জামান মোল্লা পান ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট। আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু পান ৩ হাজার ৫৯ ভোট। এই তিনজনের ভোট একত্র করলে হয় ১ লাখ ৪ হাজার ১৪৭টি অর্থাৎ বিএনপি একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারলে এ আসন থেকে বিজয়ী হতে পারত।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতের জহিরুল ইসলাম। বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পান ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ লেয়াকত আলী পান ৫৫ হাজার ৪৯২ ভোট। দুজনের ভোট একত্র করলে হয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৭টি, যা জামায়াত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি।
নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী হন। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পান ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম পান ৬৪ হাজার ২১ ভোট। এ ছাড়া হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল আজিম ৪ হাজার ৭৮৩ ভোট এবং ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩ হাজার ৭৬৪ ভোট পান।
সিলেট-৫ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান দেয়ালঘড়ি প্রতীকে ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক খেজুরগাছ প্রতীকে পান ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। আর তৃতীয় হন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ। ফুটবল প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ৫৭ হাজার ২৫১। এই দুজনের ভোট একত্র করলে হয় ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫টি, যা খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর ভোটের চেয়ে বেশি।
ময়মনসিংহ-২ আসনে বিজয়ী হন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ। তিনি ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পান। বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদার পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট। তৃতীয় হন স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের শাহ শহীদ সারোয়ার। বিএনপির এই সাবেক সংসদ সদস্য পান ৪৮ হাজার ৮৭৪ ভোট। বিএনপি এখানে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারলে তাদের প্রাপ্ত ভোট হতো ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২টি, যা দলটিকে বিজয়ী করত।
ময়মনসিংহ-৬ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা উভয়ের বিরুদ্ধেই নিজ নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা ফুটবল প্রতীকে ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট পান। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শামসুদ্দিনের স্ত্রী। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক ধানের শীষ প্রতীকে পান ৪৯ হাজার ৪৭৬ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীকে ৫১ হাজার ৯৭০ ভোট পান।
নীলফামারী-৪ আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার ২২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জামায়াত প্রার্থী আবদুল মুনতাকিম। বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার পান ৮২ হাজার ৮৬ ভোট। সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য রিয়াদ আরফান সরকার বিদ্রোহী প্রার্থী হন। ফুটবল প্রতীকে তিনি পান ৩ হাজার ৮২৬ ভোট।
রংপুর-৩ আসনে জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির সামসুজ্জামান সামু ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট পান। এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় হন। তিনি পান ৪৩ হাজার ৭৯০। ২০২৪ সালে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য প্রয়াত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সূর্যমুখী ফুল প্রতীকে পান ৪৬১ ভোট। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এবং ২০১৯ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।
গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াতের আব্দুল ওয়ারেছ ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম সরকার পান ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট। এ ছাড়া জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাদ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে ৩৭ হাজার ৫৮৬ ভোট পান। বিএনপির দুজনের প্রাপ্ত ভোট একত্র করলে হয় ১ লাখ ১১ হাজার ৬৯টি, যা জামায়াতের চেয়ে বেশি।
পাবনা-৩ আসনে জামায়াতের মাওলানা আলী আছগার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ধানের শীষ প্রতীকে পান ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি ঘোড়া প্রতীকে পান ৩৮ হাজার ২৭ ভোট। বিএনপি এখানে বিদ্রোহী প্রার্থীকে বসিয়ে দিতে পারলে তাদের প্রাপ্ত ভোট হতো ১ লাখ ৮২ হাজার ২৩৩টি। ফলে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারতেন।
পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ধানের শীষ প্রতীকে পান ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি ২৭ হাজার ৯৭০ ভোট পান। বিএনপির এই দুজনের প্রাপ্ত ভোট একত্র করলে জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে বেশি হয়। হাবিব ও পিন্টুর ভোট একত্র করলে হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৪টি।





